Muslim Flow এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং শীঘ্রই Google Play-তে আসছে। ডাউনলোড

শরিয়ত, অধিকার ও সমাজ

হুদুদের শাস্তি কী, যেমন হাত কাটা বা পাথর মারা?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হুদুদ হলো ইসলামি আইনে চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা অপবাদ ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের জন্য কয়েকটি নির্ধারিত শাস্তি। এগুলো কেবল তখনই প্রযোজ্য হয় যখন অত্যন্ত উচ্চ মানের প্রমাণ পাওয়া যায়, এবং নবী ﷺ শিখিয়েছেন যেখানেই সামান্য সন্দেহ আছে সেখানেই এগুলো এড়িয়ে চলতে।

বিস্তারিত উত্তর

যেমন জিনা (ব্যভিচার) প্রমাণে কাজটির চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগে, অথবা স্বেচ্ছায় ও বারবার স্বীকারোক্তি, এবং কুরআন চারজন সাক্ষী ছাড়া যারা অপবাদ দেয় তাদের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেছে। চুরির জন্য প্রয়োজন চুরি যাওয়া মাল একটি নির্দিষ্ট মূল্যের ওপরে হওয়া, নিরাপদ স্থান থেকে নেওয়া, এবং ক্ষুধা বা প্রয়োজনের কারণ না থাকা। বর্ণিত আছে, উমরের সময়ের দুর্ভিক্ষে তিনি চুরির শাস্তি স্থগিত করেছিলেন। নবী ﷺ ব্যভিচার স্বীকারকারী মাইজ নামের এক ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন সে নিশ্চিত কি না।

বাস্তবে ইতিহাসে হুদুদ খুব কমই প্রয়োগ হয়েছে, এবং আধুনিক বিশ্বে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশির ভাগ দেশ তা প্রয়োগ করে না। কিছু আলেম বলেন, এটি কেবল এমন সমাজে প্রয়োগ করা উচিত যা আগে ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে। ব্যভিচারের জন্য পাথর মারার শাস্তি সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে, কুরআনের পাঠের ওপর নয়, এবং আলেমরা এ নিয়ে ভিন্নমত করেছেন। সমালোচকরা এই শাস্তিগুলোকে কঠোর মনে করেন, আর মুসলিমরা বলে এর উদ্দেশ্য প্রতিরোধ, এবং কঠোর শর্তগুলো দোষী সাব্যস্ত করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

কুরআন থেকে

وَٱلسَّارِقُ وَٱلسَّارِقَةُ فَٱقْطَعُوٓا۟ أَيْدِيَهُمَا جَزَآءًۢ بِمَا كَسَبَا نَكَٰلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ﴿٣٨﴾

যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।

ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِى فَٱجْلِدُوا۟ كُلَّ وَٰحِدٍۢ مِّنْهُمَا مِا۟ئَةَ جَلْدَةٍۢ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌۭ فِى دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَآئِفَةٌۭ مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾

ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا۟ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجْلِدُوهُمْ ثَمَٰنِينَ جَلْدَةًۭ وَلَا تَقْبَلُوا۟ لَهُمْ شَهَٰدَةً أَبَدًۭا ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ ﴿٤﴾

যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।

উৎসসমূহ

এই উত্তরের পেছনের হাদিস ও বর্ণনাগুলো। sunnah.com-এ পড়তে একটি নম্বর খুলুন।

  • Sahih Muslim 1695 বিশুদ্ধ, হাদিস-বিশারদ আলেমদের কাছে সর্বসম্মত
  • The famine of 'Umar: reported in the Musannaf of 'Abd ar-Razzaq.
দয়া করে মনে রাখবেন

এই উত্তর সুন্নি মুসলিমদের প্রধান ধারার বোঝাপড়া অনুসরণ করে এবং এটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য, ফতোয়া নয়। যেখানে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে, উত্তরে তা বলা হয়েছে। আপনার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের লিখুন.

WhatsApp