Muslim Flow এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং শীঘ্রই Google Play-তে আসছে। ডাউনলোড

শরিয়ত, অধিকার ও সমাজ

সমকামিতা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

ইসলাম শেখায়, যৌন সম্পর্ক কেবল স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেই বৈধ, তাই সমলিঙ্গের কাজ পাপ বলে গণ্য, যেমন কুরআনে লুতের সম্প্রদায়ের কাহিনিও বর্ণনা করে। একই সঙ্গে ইসলাম কাউকে হয়রানি, অপমান বা আক্রমণ করা নিষিদ্ধ করেছে, এবং মানুষের হৃদয় ও ঈমান কেবল আল্লাহই জানেন।

বিস্তারিত উত্তর

সব মুসলিম মাজহাবের মূলধারার মত হলো সমলিঙ্গের কাজ নিষিদ্ধ। অনেক মুসলিম আলেম আকর্ষণ অনুভব করা, যা বেছে নেওয়া নয় বলে পাপ নয়, এবং সে অনুযায়ী কাজ করার মধ্যে পার্থক্য করেন। ক্লাসিক্যাল আইনে প্রমাণের মান ছিল অত্যন্ত উঁচু, এবং মুসলিমদের বলা হয়েছে একে অপরের গোপনীয়তা খুঁজে না বেড়াতে বা ব্যক্তিগত পাপ প্রকাশ না করতে।

বাস্তবে মুসলিমদের মধ্যে ভিন্নতা আছে। কিছু দেশে সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ করা হয়েছে, এবং কিছু সম্প্রদায়ে এলজিবিটি মানুষের সঙ্গে আচরণ কঠোর। অনেক মুসলিম বলে, সহিংসতা ও ঘৃণার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই, এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মুসলিম কণ্ঠ সহানুভূতির আহ্বান জানায়। অন্যরা চিরাচরিত মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করে। পশ্চিমা পাঠকদের জানা উচিত, এই মত যৌন নৈতিকতা নিয়ে বিশ্বাসের একটি আকিদাগত অবস্থান, কাউকে ক্ষতি করার কারণ নয়।

কুরআন থেকে

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَتَأْتُونَ ٱلْفَٰحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍۢ مِّنَ ٱلْعَٰلَمِينَ ﴿٨٠﴾ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ مُّسْرِفُونَ ﴿٨١﴾

এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱجْتَنِبُوا۟ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ ٱلظَّنِّ إِثْمٌۭ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا۟ وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًۭا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌۭ رَّحِيمٌۭ ﴿١٢﴾

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا يَسْخَرْ قَوْمٌۭ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُوا۟ خَيْرًۭا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَآءٌۭ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيْرًۭا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا۟ بِٱلْأَلْقَٰبِ ۖ بِئْسَ ٱلِٱسْمُ ٱلْفُسُوقُ بَعْدَ ٱلْإِيمَٰنِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ﴿١١﴾

মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।

দয়া করে মনে রাখবেন

এই উত্তর সুন্নি মুসলিমদের প্রধান ধারার বোঝাপড়া অনুসরণ করে এবং এটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য, ফতোয়া নয়। যেখানে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে, উত্তরে তা বলা হয়েছে। আপনার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের লিখুন.

WhatsApp