কুরআন বলে, আসমান ও জমিন একসময় একসঙ্গে যুক্ত ছিল, তারপর আলাদা হয়েছে, আসমান প্রসারিত হচ্ছে, এবং সৃষ্টি ছয়টি ‘দিন’ বা সময়কালে ঘটেছে। কুরআন মহাবিশ্বের বয়স জানায় না, এবং মুসলিমরা সাধারণত বৈজ্ঞানিক অনুমান মেনে নেয়।
বিস্তারিত উত্তর
কুরআনে ‘ইয়াওম’ (দিন) শব্দের অর্থ যেকোনো দৈর্ঘ্যের সময়কাল হতে পারে, এবং কুরআন বলে আল্লাহর কাছে একটি দিন হাজার বছরের মতো হতে পারে। তাই সৃষ্টির জন্য ছয় দিন পৃথিবীর নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন ঠিক করে না। মুসলিম আলেমরা প্রায়ই আসমান ও জমিনের একসঙ্গে যুক্ত থাকা ও আলাদা হওয়া সম্পর্কিত ২১:৩০ আয়াত এবং আসমানের প্রসারিত হওয়া সম্পর্কিত ৫১:৪৭ আয়াতকে বিগ ব্যাং ও প্রসারিত মহাবিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।
কিছু মুসলিম এই তুলনাগুলো নিয়ে সতর্ক। বিজ্ঞান বদলায়, আর কুরআন পথনির্দেশের গ্রন্থ। এই আয়াতগুলোর উদ্দেশ্য আল্লাহর ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করা, এবং মুসলিমরা এগুলোকে চিন্তা করার নিদর্শন হিসেবে গণ্য করে, প্রতিটি আয়াত বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
এই উত্তর সুন্নি মুসলিমদের প্রধান ধারার বোঝাপড়া অনুসরণ করে এবং এটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য, ফতোয়া নয়। যেখানে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে, উত্তরে তা বলা হয়েছে। আপনার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের লিখুন.