Muslim Flow এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং শীঘ্রই Google Play-তে আসছে। ডাউনলোড

নারী, পরিবার ও বিয়ে

ইসলাম কি একজন পুরুষকে একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দেয়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

ইসলাম একজন পুরুষকে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি দেয়, কিন্তু ন্যায়বিচারের কঠোর শর্তে, এবং কুরআন সতর্ক করে যে অবিচারের আশঙ্কা থাকলে একজনকেই বিয়ে করবে। বাস্তবে আজকের মুসলিম বিয়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই একগামী।

বিস্তারিত উত্তর

আয়াতটি উহুদের যুদ্ধের পর অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন অনেক পুরুষ মারা গিয়েছিলেন এবং অনেক বিধবা ও এতিমের সুরক্ষার প্রয়োজন ছিল। সে সময় পৃথিবীর সব জায়গায় বহুবিবাহ ছিল এবং এর কোনো সীমা ছিল না; ইসলাম একে চারজনে সীমিত করেছে এবং শর্ত জুড়ে দিয়েছে: ভরণপোষণ, বাসস্থান ও সময়ে সমান আচরণ, এবং আইনের সম্মতি। কুরআন নিজেই বলে, যতই চেষ্টা করা হোক, স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি সমান আচরণ করা যায় না।

একজন নারী তার বিয়ের চুক্তিতে শর্ত রাখতে পারে যে তার স্বামী আর কোনো স্ত্রী নেবে না, এবং বেশির ভাগ মাজহাবে এটি গ্রহণযোগ্য। তিউনিসিয়া ও তুরস্কের মতো কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে, আর অন্যরা আদালত বা স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক করেছে। আজ এটি কতটা ব্যাপকভাবে চর্চা করা উচিত তা নিয়ে মুসলিমদের মতভেদ আছে।

কুরআন থেকে

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا۟ فِى ٱلْيَتَٰمَىٰ فَٱنكِحُوا۟ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا۟ فَوَٰحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُوا۟ ﴿٣﴾

আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।

وَلَن تَسْتَطِيعُوٓا۟ أَن تَعْدِلُوا۟ بَيْنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ فَلَا تَمِيلُوا۟ كُلَّ ٱلْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلْمُعَلَّقَةِ ۚ وَإِن تُصْلِحُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ﴿١٢٩﴾

তোমরা কখনও নারীদেরকে সমান রাখতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব, সম্পূর্ণ ঝুঁকেও পড়ো না যে, একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদাভীরু হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

দয়া করে মনে রাখবেন

এই উত্তর সুন্নি মুসলিমদের প্রধান ধারার বোঝাপড়া অনুসরণ করে এবং এটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য, ফতোয়া নয়। যেখানে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে, উত্তরে তা বলা হয়েছে। আপনার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের লিখুন.

WhatsApp