Muslim Flow এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং শীঘ্রই Google Play-তে আসছে। ডাউনলোড

শান্তি, যুদ্ধ, জিহাদ ও সহিংসতা

ইসলাম কি সন্ত্রাস বা নিরপরাধ মানুষ হত্যার অনুমতি দেয়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না। নিরপরাধ মানুষকে, মুসলিম হোক বা না হোক, হত্যা করা ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপগুলোর একটি। কুরআন বলে, যে কেউ কোনো প্রাণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।

বিস্তারিত উত্তর

ভয় ছড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা, অর্থাৎ সন্ত্রাসের কোনো ভিত্তি কুরআন বা সুন্নাহতে নেই। নবী ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিরাপত্তার চুক্তিতে থাকা কাউকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ আত্মহত্যা নিষিদ্ধ, তাই ‘আত্মঘাতী বোমা হামলা’র কোনো ইসলামি ভিত্তি নেই, এবং আল-আজহার থেকে সৌদি আরব ও দেওবন্দ পর্যন্ত সব মাজহাবের আলেমরা ৯/১১-এর মতো হামলার নিন্দা করেছেন এবং অনেকে এর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন।

চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আয়াত উদ্ধৃত করে এবং মুসলিম মূলধারা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সন্ত্রাসের শিকার বেশির ভাগই মুসলিম। মুসলিম বিশ্বে এ ধরনের গোষ্ঠী কেন আছে তা জিজ্ঞাসা করা ন্যায্য, এবং এর উত্তরে আছে যুদ্ধ, রাজনীতি, দারিদ্র্য ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, কিন্তু ইসলামের বিধান স্পষ্ট।

কুরআন থেকে

مِنْ أَجْلِ ذَٰلِكَ كَتَبْنَا عَلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَنَّهُۥ مَن قَتَلَ نَفْسًۢا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعًۭا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحْيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعًۭا ۚ وَلَقَدْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِٱلْبَيِّنَٰتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًۭا مِّنْهُم بَعْدَ ذَٰلِكَ فِى ٱلْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ ﴿٣٢﴾

এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।

وَلَا تَقْتُلُوا۟ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۗ وَمَن قُتِلَ مَظْلُومًۭا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِۦ سُلْطَٰنًۭا فَلَا يُسْرِف فِّى ٱلْقَتْلِ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ مَنصُورًۭا ﴿٣٣﴾

সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।

۞ قُلْ تَعَالَوْا۟ أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا۟ بِهِۦ شَيْـًۭٔا ۖ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَٰنًۭا ۖ وَلَا تَقْتُلُوٓا۟ أَوْلَٰدَكُم مِّنْ إِمْلَٰقٍۢ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ ۖ وَلَا تَقْرَبُوا۟ ٱلْفَوَٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ۖ وَلَا تَقْتُلُوا۟ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿١٥١﴾

আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রে?480; কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٍۢ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًۭا ﴿٢٩﴾

হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।

উৎসসমূহ

এই উত্তরের পেছনের হাদিস ও বর্ণনাগুলো। sunnah.com-এ পড়তে একটি নম্বর খুলুন।

  • Sahih al-Bukhari 3166 বিশুদ্ধ, হাদিস-বিশারদ আলেমদের কাছে সর্বসম্মত
দয়া করে মনে রাখবেন

এই উত্তর সুন্নি মুসলিমদের প্রধান ধারার বোঝাপড়া অনুসরণ করে এবং এটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য, ফতোয়া নয়। যেখানে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে, উত্তরে তা বলা হয়েছে। আপনার নিজের কোনো প্রশ্ন আছে? আমাদের লিখুন.

WhatsApp